ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে মানুষ নানা প্রয়োজনে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে। সাইবার অপরাধীরা এসব মাধ্যম থেকে গোপনীয় তথ্য-যেমন আইডি, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর-সংগ্রহ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তারা ভুয়া ই-মেইল, ফোন কল, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিজ্ঞাপনসহ নানা কৌশলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এমন প্রতারণার শিকার হয় এবং অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার হলো ফিশিং।
ফিশিং (Phishing) হলো একটি সাইবার প্রতারণার কৌশল, যেখানে অপরাধীরা বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশে ভুয়া ইমেইল, মেসেজ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য-যেমন পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর-হাতিয়ে নেয়। তারা সাধারণত শিকারের কাছে জরুরি বা আকর্ষণীয় বার্তা পাঠায়, যাতে একটি লিঙ্ক থাকে। এই লিঙ্ক ক্লিক করলে শিকারকে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তথ্য প্রবেশ করতে বলা হয়। এছাড়া, ফোন কল, ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইল সংযুক্তি বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমেও তথ্য চুরি হয়। ফলে ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।
ফিশিং থেকে রক্ষা পেতে সন্দেহজনক ইমেইল, মেসেজ বা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রবেশ করুন, লিঙ্কের মাধ্যমে নয়। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং দুই-স্তরীয় যাচাই (2FA) ব্যবহার করুন। নিরাপদ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আপডেট রাখুন। এছাড়া, অনলাইনে বিভিন্ন টুলস রয়েছে যা সন্দেহজনক লিঙ্ক, URL, ফাইল বা ই-মেইল সংযুক্তি যাচাই করে। এতে আর্থিক ও তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।
ভাইরাসটোটাল (VirusTotal) এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যা বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস ইঞ্জিন এবং নিরাপত্তা টুল ব্যবহার করে ফাইল, লিঙ্ক এবং ওয়েবসাইট স্ক্যান করে ম্যালওয়্যার, ভাইরাস, ট্রোজান, ফিশিংসহ অন্যান্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করে। ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক ফাইল বা URL আপলোড করে স্ক্যান করতে পারেন, এবং এটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রদান করে। ভাইরাসটোটাল ক্যাসপারস্কি (Kaspersky), অ্যাভাস্ট (Avast), ম্যাকাফি (McAfee)-সহ বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে। এটি সন্দেহজনক ফাইল বা লিঙ্কের জন্য বিস্তারিত স্ক্যান রিপোর্ট তৈরি করে, যাতে ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারেন এটি নিরাপদ কি না।
ভাইরাসটোটাল (VirusTotal)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- ফাইল স্ক্যানিং: ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক ফাইল আপলোড করে স্ক্যান করতে পারেন। এটি ৭০টিরও বেশি অ্যান্টিভাইরাস ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট প্রদান করে।
- URL/ডোমেইন স্ক্যানিং: কোনো URL বা ডোমেইন এন্টার করে স্ক্যান করুন। এটি ওয়েবসাইটে ফিশিং, ম্যালওয়্যার বা অন্যান্য হুমকি আছে কি না চেক করে।
- আইপি অ্যাড্রেস স্ক্যানিং: আইপি অ্যাড্রেস স্ক্যান করে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
- বিস্তারিত রিপোর্ট: প্রতিটি স্ক্যানের পর বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে, যাতে সমস্ত হুমকি এবং অ্যান্টিভাইরাস ফলাফল দেখানো হয়।
- কমিউনিটি ফিডব্যাক: ব্যবহারকারীরা কমেন্ট এবং রেটিং যোগ করতে পারেন, যা অন্যদের সহায়ক হয়।
কীভাবে ভাইরাসটোটাল (VirusTotal) ব্যবহার করবেন:
- ওয়েবসাইটে যান: https://www.virustotal.com।
- ফাইল স্ক্যান করতে “File” ট্যাবে ক্লিক করে ফাইল আপলোড করুন। URL স্ক্যান করতে “URL” ট্যাবে লিঙ্ক লিখুন বা পেস্ট করুন।
- স্ক্যান সম্পন্ন হলে, বিস্তারিত রিপোর্ট দেখুন।
যদি আপনার ডিভাইসে ভালো অ্যান্টিভাইরাস না থাকে, তাহলে সন্দেহজনক ফাইল, অ্যাটাচমেন্ট বা URL ভাইরাসটোটালে স্ক্যান করুন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডিভাইস ডিজিটাল ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা ফাইল খোলার আগে স্ক্যান করুন, যাতে কোনো ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়। ইমেইল বা মেসেজে পাওয়া অপরিচিত লিঙ্ক ক্লিক করার আগে স্ক্যান করে নিশ্চিত হোন। সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

